বলিউডে কপিল শর্মা মানেই নির্ভেজাল কমেডি
আর অপ্রত্যাশিত হাসির ঝড়। সেই ধারাবাহিকতায় দর্শকদের জন্য ফিরে এসেছে “কিস কিসকো পেয়ার
কারুন 2”—আরও বড়, আরও জটিল
এবং আরও হাস্যকর পরিস্থিতি নিয়ে।
২০২৫ সালের এই হিন্দি কমেডি-ড্রামা চলচ্চিত্রটি
পরিচালনা করেছেন অনুকল্প গোস্বামী এবং এতে প্রধান ভূমিকায় রয়েছেন কপিল শর্মা। ২০১৫
সালের সুপারহিট ছবি Kis Kisko Pyaar Karoon-এর সিক্যুয়েল
হিসেবে নির্মিত এই সিনেমায় ভুল পরিচয়, একাধিক বিয়ে, ধর্মীয় বিভ্রান্তি ও হাস্যকর পরিস্থিতির
মিশেলে তৈরি হয়েছে এক দমফাটা কমেডি গল্প। মনজোত সিং, ত্রিধা চৌধুরী, পারুল গুলাটি ও
আয়েশা খানের অভিনয়ে ছবিটি আরও প্রাণবন্ত হয়েছে।
📖
কাহিনি সংক্ষেপ:
মোহন ও সানিয়া একে অপরকে গভীরভাবে ভালোবাসে।
তবে তাদের প্রেমের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ধর্মীয় পার্থক্য—মোহন হিন্দু এবং
সানিয়া মুসলিম। সানিয়ার বাবা মির্জা এই সম্পর্কের বিরোধিতা করে তাকে মাহমুদ নামে
এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। প্রেমের টানে মোহন চরম সিদ্ধান্ত নেয়—সে ইসলাম গ্রহণ
করে নিজের নাম মাহমুদ রাখার প্রস্তাব দেয়। মির্জা তার এই ত্যাগে খুশি হয়ে বিয়েতে সম্মতি
দেন, কিন্তু বিয়ের দিন সানিয়ার কাছ থেকে মোহনের আসল পরিচয় গোপন রাখেন।
বিয়ের দিনে বিভ্রান্তির শুরু। সানিয়া
পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং নিজের জায়গায় তার চাচাতো বোন রুহিকে ঘোমটার নিচে বসিয়ে
দেয়। ফলাফল—মোহন অজান্তেই রুহিকে বিয়ে করে ফেলে। সত্য জানার পর
মোহন বিয়ে ভাঙতে চাইলে রুহি আত্মহত্যার হুমকি দেয়, বাধ্য হয়ে মোহন তাকে স্ত্রী হিসেবে
মেনে নেয়।
আরো দেখুন:
আজাদ ভারত মুভি ডাউনলোড – Azad Bharath Movie Download (2026)
এরপর দুর্ঘটনাবশত মোহনের মাথায় আঘাত লাগে
এবং অজ্ঞান অবস্থায় তার পরিবার তাকে মীরা নামে এক হিন্দু মেয়ের সঙ্গে বিয়ে দিয়ে দেয়।
পরিস্থিতি একই—মীরা আত্মহত্যার হুমকি দিলে মোহন তাকেও স্ত্রী হিসেবে
গ্রহণ করে নেয়।
এখানেই শেষ নয়। সানিয়া আবার যোগাযোগ করে জানায়, সে খ্রিস্টধর্ম গ্রহণ করেছে এবং গোয়ায় গির্জায় বিয়ে করতে চায়। মোহন সেখানে গিয়ে নতুন ঝামেলায় পড়ে, যেখানে জেনি নামে এক খ্রিস্টান মেয়েকে জীবন বাঁচাতে গিয়ে তাকেও বিয়ে করতে হয়। এভাবে মোহন তিন স্ত্রী নিয়ে ভয়ংকর বিপাকে পড়ে।
একদিকে তিন ধর্মের রীতি পালন, অন্যদিকে
স্ত্রীদের আড়াল করা—মোহনের জীবন হয়ে ওঠে এক বিশৃঙ্খল কমেডি।
এর মধ্যে জেনির ভাই ডিসিপি ডেভিড ডি’কোস্টা বহুবিবাহের
রহস্য অনুসন্ধান শুরু করে। পাশাপাশি কিছু ট্রান্সজেন্ডার গোষ্ঠী মোহনকে ব্ল্যাকমেইল
করতে থাকে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় যখন সানিয়া স্মৃতিভ্রংশে
ভোগে এবং মোহন নতুন পরিচয়ে তাকে আবার প্রেমে পড়ায়। শেষ পর্যন্ত সব সত্য প্রকাশ পায়।
ভুল বোঝাবুঝি, আবেগ ও নাটকের পর তিন স্ত্রী বুঝতে পারে মোহন আসলে জীবন বাঁচাতেই এসব
করেছে।


