দেশপ্রেম, আত্মত্যাগ এবং বীরত্বের বাস্তব
গল্প নিয়ে নির্মিত সিনেমার প্রতি দর্শকদের আগ্রহ চিরকালীন। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ সালের
শুরুতেই বড় পর্দায় এসেছে “ইক্কিস (Ikkis)”—একটি হৃদয়স্পর্শী
ও গর্বে ভরিয়ে দেওয়া যুদ্ধভিত্তিক জীবনীচিত্র। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পটভূমিতে
নির্মিত এই ছবি শুধুই একটি সিনেমা নয়, বরং এক শহীদের অমর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধার্ঘ্য।
শ্রীরাম রাঘবন পরিচালিত ২০২৬ সালের এই
হিন্দি জীবনীভিত্তিক যুদ্ধ নাট্য চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে পরমবীর চক্রপ্রাপ্ত সর্বকনিষ্ঠ
শহীদ লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপালের জীবনের উপর। ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের
ঐতিহাসিক বসন্তরের যুদ্ধকে কেন্দ্র করে এগিয়ে চলে ছবির কাহিনি। অগস্ত্য নন্দের অভিষেক,
ধর্মেন্দ্র ও আসরানির শেষ চলচ্চিত্রে অভিনয় এবং জয়দীপ আহলাওয়াতের শক্তিশালী উপস্থিতি
ছবিটিকে করেছে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
📖
কাহিনি সংক্ষেপ:
ইক্কিস চলচ্চিত্রটি কেন্দ্র করে আবর্তিত
হয়েছে সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট অরুণ ক্ষেত্রপাল–এর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ
অধ্যায়কে। ছোটবেলা থেকেই অরুণ ছিলেন সাহসী, দায়িত্বশীল ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ। সেনাবাহিনীতে
যোগ দেওয়ার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজেকে একজন দক্ষ ও নির্ভীক অফিসার হিসেবে
প্রমাণ করেন।
আরো দেখুন:
নিশীথ সেন ওয়েব সিরিজ ডাউনলোড – Nishith Sen Web Series Download (2026)
গল্পের মূল সময়কাল ১৯৭১ সালের ভারত-পাকিস্তান
যুদ্ধ। যুদ্ধের উত্তাল মুহূর্তে অরুণ ক্ষেত্রপালকে দায়িত্ব দেওয়া হয় কৌশলগতভাবে অত্যন্ত
গুরুত্বপূর্ণ বসন্তর সেক্টর রক্ষা করার। শত্রুপক্ষের প্রবল আক্রমণ, ট্যাঙ্ক বাহিনীর
অগ্রযাত্রা এবং জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে অরুণ একের পর এক সাহসী সিদ্ধান্ত নেন।
একাধিকবার আহত হওয়া সত্ত্বেও তিনি যুদ্ধক্ষেত্র
ছাড়তে অস্বীকৃতি জানান। তাঁর নেতৃত্ব ও অদম্য সাহস ভারতীয় সেনাদের মনোবল বহুগুণ বাড়িয়ে
তোলে। শেষ পর্যন্ত মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি দেশের জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেন এবং শহীদ
হন। এই বয়স থেকেই চলচ্চিত্রটির নামকরণ—“ইক্কিস”।
ছবির আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, যুদ্ধের
প্রায় ৩০ বছর পর ব্রিগেডিয়ার মদন লাল ক্ষেত্রপাল–এর পাকিস্তান
সফর। এই অংশে যুদ্ধের স্মৃতি, শত্রু ও মিত্র—দু’পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি
এবং সময়ের সঙ্গে বদলে যাওয়া সম্পর্ককে সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে। এটি গল্পে একটি
মানবিক ও আবেগঘন মাত্রা যোগ করে।
পরিচালক শ্রীরাম রাঘবন খুব সূক্ষ্মভাবে
যুদ্ধের ভয়াবহতা, একজন তরুণ সেনা অফিসারের মানসিক দৃঢ়তা এবং পরিবারের নীরব ত্যাগকে
পর্দায় ফুটিয়ে তুলেছেন। ধর্মেন্দ্র ও আসরানির শেষ চলচ্চিত্রে উপস্থিতি গল্পে অভিজ্ঞতা
ও আবেগের গভীরতা এনে দেয়, আর জয়দীপ আহলাওয়াতের চরিত্র ছবিকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

