ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এমন
অনেক অধ্যায় রয়েছে, যেগুলো এখনও পর্দায় পুরোপুরি তুলে ধরা হয়নি। “আজাদ ভারত (Azad
Bharath)” ঠিক তেমনই এক অনন্য প্রচেষ্টা—যেখানে পুরুষদের
পাশাপাশি নারীদের সাহস, আত্মত্যাগ ও বিপ্লবী ভূমিকা তুলে ধরা হয়েছে গভীর গুরুত্বের
সঙ্গে। ২০২৬ সালের শুরুতেই মুক্তি পাওয়া এই ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রটি দর্শকদের নিয়ে যায়
এক গর্বের অতীতে, যেখানে স্বাধীনতার জন্য জীবন বাজি রেখেছিল ঝাঁসির রাণী রেজিমেন্টের
নারীরা।
২০২৬ সালের এই হিন্দি ভাষার ঐতিহাসিক চলচ্চিত্রটি
নির্মিত হয়েছে ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী
(INA) এবং তাদের সাহসী
মহিলা ইউনিট ঝাঁসির রাণী রেজিমেন্টকে কেন্দ্র করে। রূপা আইয়ার পরিচালিত এই ছবিতে অভিনয়
করেছেন শ্রেয়াস তালপাদে, সুরেশ ওবেরয়, রূপা আইয়ার ও ইন্দিরা তিওয়ারি। নারী শক্তি, দেশপ্রেম
ও আত্মত্যাগের বাস্তব গল্পে ভরপুর আজাদ ভারত সিনেমাটি ইতিহাসপ্রেমী দর্শকদের জন্য অবশ্যই
দেখার মতো।
📖
কাহিনি সংক্ষেপ:
আজাদ ভারত চলচ্চিত্রের পটভূমি গড়ে উঠেছে
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের এক গুরুত্বপূর্ণ সময়কে কেন্দ্র করে, যখন নেতাজি সুভাষচন্দ্র
বসু–র নেতৃত্বে গঠিত
হয় ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনী (INA)। এই সেনাবাহিনীর মধ্যেই গড়ে ওঠে
এক ব্যতিক্রমী নারী যুদ্ধ ইউনিট—ঝাঁসির রাণী রেজিমেন্ট, যা নারীদের
সামরিক ইতিহাসে এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
আরো দেখুন:
ইক্কিস মুভি ডাউনলোড – Ikkis Movie Download (2026)
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র নীরা আর্য—একজন সাহসী ও
আদর্শবাদী তরুণী, যিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য নিজের স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে এই রেজিমেন্টে
যোগ দেন। নীরার চোখ দিয়েই দর্শক দেখতে পান সেই সময়ের সামাজিক বাধা, পারিবারিক দ্বন্দ্ব
এবং নারীদের প্রতি সমাজের প্রচলিত দৃষ্টিভঙ্গি।
রেজিমেন্টে যোগ দেওয়ার পর শুরু হয় কঠোর
সামরিক প্রশিক্ষণ। অস্ত্র চালানো, শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং যুদ্ধ কৌশল—সবকিছুতেই নারী
সৈন্যদের পুরুষদের সমান দক্ষ করে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়। এই প্রশিক্ষণের সময় নীরা
ও তার সহযোদ্ধারা কেবল শারীরিক নয়, মানসিকভাবেও নিজেদের প্রস্তুত করে তোলে আসন্ন সংগ্রামের
জন্য।
চলচ্চিত্রটি শুধু যুদ্ধের দৃশ্যেই সীমাবদ্ধ
নয়; বরং এতে তুলে ধরা হয়েছে নারী সৈন্যদের পারস্পরিক বন্ধন, ভয়, আশা ও দেশপ্রেমের গভীর
অনুভূতি। শত্রুপক্ষের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলার পাশাপাশি তাদের নিজেদের
অস্তিত্ব প্রমাণের লড়াইও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গল্প এগোতে থাকলে দেখা যায়, ঝাঁসির রাণী
রেজিমেন্ট কেবল প্রতীকী কোনো বাহিনী নয়—বরং বাস্তব যুদ্ধ
পরিস্থিতিতে তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। নীরা আর্যের নেতৃত্বগুণ, সাহসী সিদ্ধান্ত
এবং আত্মত্যাগ রেজিমেন্টের অন্য সদস্যদের অনুপ্রাণিত করে।
চলচ্চিত্রের শেষভাগে স্বাধীনতা আন্দোলনের
কঠিন বাস্তবতা, পরাজয় ও ত্যাগের বেদনাময় মুহূর্তগুলো সংবেদনশীলভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
যদিও সব স্বপ্ন তখনই পূরণ হয় না, তবুও এই নারী যোদ্ধাদের অবদান ভারতের স্বাধীনতার ইতিহাসে
এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায় হয়ে থাকে।

