বলিউডে মাঝেমধ্যে এমন কিছু সিনেমা আসে,
যেগুলো হাসির আড়ালে সমাজের অদ্ভুত বাস্তবতাকে তুলে ধরে। “দুর্লভ প্রসাদ
কি দশরী শাদি” ঠিক তেমনই একটি রোমান্টিক কমেডি, যেখানে প্রেম, পারিবারিক
বাধা এবং সামাজিক ধারণার মিশেলে তৈরি হয়েছে এক ভিন্নধর্মী গল্প। সহজ-সরল অথচ হৃদয়ছোঁয়া
এই ছবিটি দর্শকদের হাসানোর পাশাপাশি ভাবাতেও বাধ্য করে।
২০২৫ সালের এই হিন্দি রোমান্টিক কমেডি
চলচ্চিত্রটি পরিচালনা করেছেন সিদ্ধান্ত রাজ সিং এবং এতে প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন
সঞ্জয় মিশ্র ও মহিমা চৌধুরী। সামাজিক কুসংস্কার, পারিবারিক চাপ ও ভালোবাসার টানাপোড়েনকে
হালকা হাস্যরসে উপস্থাপন করেছে এই সিনেমা। একজন যুবকের বিয়ে আটকে যাওয়ার অদ্ভুত কারণ
এবং সেই সমস্যার সমাধানে তার বাবার দ্বিতীয় বিয়ের সিদ্ধান্ত—এই ব্যতিক্রমী
গল্পই ছবির মূল আকর্ষণ।
📖
কাহিনি সংক্ষেপ:
চলচ্চিত্রের গল্প আবর্তিত হয়েছে মুরলি
নামের এক যুবককে ঘিরে। মুরলি একজন সাধারণ, সৎ এবং ভালোবাসাপূর্ণ মানুষ, যে তার প্রেমিকা
মেহককে প্রাণভরে ভালোবাসে। দু’জনের সম্পর্ক গভীর হলেও তাদের বিয়ের
পথে দাঁড়িয়ে যায় এক অদ্ভুত ও অপ্রত্যাশিত বাধা।
আরো দেখুন:
কিস কিসকো পেয়ার কারুন ২ মুভি ডাউনলোড – Kis Kisko Pyaar Karoon 2 Movie
মুরলির পরিবারের বাড়িতে দীর্ঘদিন ধরে কোনো
নারী সদস্য নেই। তার মা অনেক আগেই মারা গেছেন, আর তখন থেকেই বাড়িতে কেবল পুরুষ সদস্যদের
বসবাস। সমাজের প্রচলিত কিছু ধারণা অনুযায়ী, মেহকের পরিবার মনে করে—যে বাড়িতে কোনো
নারী নেই, সেখানে মেয়েকে বিয়ে দেওয়া অশুভ এবং অনিরাপদ। এই বিশ্বাসের কারণে তারা মুরলির
সঙ্গে মেহকের বিয়েতে স্পষ্টভাবে অস্বীকৃতি জানায়।
এই সিদ্ধান্তে মুরলি মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে।
সে বোঝে, সমস্যা তার প্রেম বা ব্যক্তিত্বে নয়, বরং সমাজের একটি অদ্ভুত নিয়মে। মেহককে
হারানোর ভয়ে সে মরিয়া হয়ে ওঠে যেকোনো উপায়ে এই বাধা দূর করতে।
এখানেই গল্প নেয় এক চমকপ্রদ মোড়। মুরলি
এক অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্ত নেয়—সে তার বিধবা বাবা দুর্লভ প্রসাদ–কে আবার বিয়ে
দেওয়ার পরিকল্পনা করে। তার ধারণা, বাড়িতে যদি একজন নারী আসে, তাহলে মেহকের পরিবারের
আপত্তি আর থাকবে না।
প্রথমে দুর্লভ প্রসাদ এই প্রস্তাবে বিস্মিত
ও দ্বিধাগ্রস্ত হয়ে পড়েন। বয়স, সমাজের চোখে সম্মান এবং অতীতের স্মৃতি—সব মিলিয়ে দ্বিতীয়
বিয়ে তার কাছে সহজ সিদ্ধান্ত নয়। কিন্তু ছেলের ভালোবাসা ও ভবিষ্যতের কথা ভেবে তিনি
ধীরে ধীরে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শুরু করেন।
দুর্লভ প্রসাদের জীবনে যখন নতুন করে প্রেমের
সম্ভাবনা আসে, তখন একের পর এক হাস্যকর ও আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আত্মীয়স্বজনের
কটাক্ষ, পাড়াপড়শির গুজব এবং নিজের মনের দ্বন্দ্ব—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি
হয়ে ওঠে জটিল।
চলচ্চিত্রটি খুব সুন্দরভাবে দেখিয়েছে,
কীভাবে সামাজিক কুসংস্কার কখনো কখনো মানুষের জীবনে অযথা জটিলতা তৈরি করে। পাশাপাশি
এটি তুলে ধরে দ্বিতীয় সুযোগের গুরুত্ব—ভালোবাসা, জীবনের
এবং সুখের।

