২০২৫ সালের অন্যতম আলোচিত তামিল ড্রামা
Idly
Kadai
(ইডলি কড়াই) গ্রাম্য ইডলি দোকানের উত্তরাধিকার, পরিবার, স্বপ্ন ও সাফল্যের সংঘাতকে
কেন্দ্র করে নির্মিত একটি আবেগঘন গল্প। Dhanush-এর অভিনয় ও পরিচালনায়
ছবিটি শুধু একটি রেস্তোরাঁ নয়, বরং প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে থাকা ঐতিহ্যকে রক্ষার
সংগ্রামকে তুলে ধরে।
Wonderbar Films এবং Don
Pictures
প্রযোজিত এই সিনেমায় ধানুশের সঙ্গে অভিনয় করেছেন Arun Vijay,
Sathyaraj, P. Samuthirakani, Nithya Menen, Shalini Pandey, Rajkiran এবং R.
Parthiban।
কাহিনি
সংক্ষেপ:
তামিলনাড়ুর থেনি জেলার সাঙ্গারাপুরম গ্রাম— এখানেই অবস্থিত
শিবানেসন নামের একজন সাধারণ মানুষের ইডলি দোকান। দোকানটি ছোট হলেও, এর স্বাদ, ইতিহাস
এবং পারিবারিক মূল্যবোধ এলাকাজুড়ে পরিচিত। কিন্তু তরুণ মুরুগান, যিনি শিবানেসনের ছেলে,
এই সাধারণ ইডলি ব্যবসা ছাড়িয়ে বড় স্বপ্ন দেখতে চান। তাঁর লক্ষ্য— একজন বিখ্যাত
শেফ হওয়া, আর এজন্য তিনি গ্রাম ছেড়ে পা বাড়ান বাইরের পৃথিবীর দিকে।
বহু বছর পর, ভাগ্য তাকে ব্যাংককে নিয়ে
যায়। সেখানে তিনি কোটিপতি বিষ্ণুবর্ধনের বাড়ির প্রধান শেফ হিসেবে কাজ করেন। মুরুগানের
পরিশ্রম, দক্ষতা এবং প্রফেশনাল মনোভাব তাকে সফল করে তোলে। বিষ্ণুর পরিবারের সঙ্গে তাঁর
সম্পর্ক গভীর হয়, বিশেষ করে বিষ্ণুর মেয়ে মীরার সঙ্গে। শেষ পর্যন্ত মুরুগান ও মীরা
বিয়ে করেন, এবং জীবন যেন নতুন পথে এগিয়ে যায়।
আরো দেখুন:
বালতি মুভি ডাউনলোড – Balti Movie Download (2025)
পুতুলনাচের ইতিকথা মুভি ডাউনলোড – Putulnacher Itikatha Movie Download
তবে সুখ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। গ্রামের খবর
আসে— তাঁর বাবা শিবানেসন
মারা গেছেন। দীর্ঘদিন দূরে থাকার পরেও এই সংবাদ মুরুগানকে ভেঙে দেয়। তিনি সিদ্ধান্ত
নেন— অতীতের সঙ্গে
সাক্ষাৎ করার সময় এসেছে। কিন্তু বহু বছর পরে বাড়ি ফিরলে তিনি বুঝতে পারেন, গ্রাম আর
সেই আগের মতো নেই। পরিবারের উত্তরাধিকার, দোকানের ভবিষ্যৎ এবং তাঁর বাবার সম্মান চরম
সংকটে।
এদিকে বিষ্ণুবর্ধনের নিজেরও বড় অপদস্থ
হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। পরিবারের সুনাম ঝুঁকির মুখে পড়ে এবং তিনি তাঁর ছেলে অশ্বিনকে
মুরুগানকে ফিরিয়ে আনতে পাঠান। অশ্বিনের আগমন গ্রামীণ পরিবেশকে আরও জটিল করে তোলে, কারণ
সে শুধুমাত্র ব্যবসার কথা ভাবে— পরিবার ও ঐতিহ্যের মূল্য নয়। মুরুগানকে
বাধ্য করা হয় কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে— তিনি কি ব্যক্তিগত
সাফল্যের পথে হাঁটবেন, না কি বাবার ছোট্ট দোকান ও গ্রামের মানুষদের জন্য লড়বেন?
গল্পের মোড় ঘুরে যায় তখন, যখন মুরুগান
তাঁর বাবার স্বপ্নকে বুঝতে পারেন: ইডলি দোকান শুধু খাবার নয়— এটি মানুষের
স্মৃতি, সম্পর্ক এবং আত্মমর্যাদার প্রতীক। নতুন প্রজন্মের আধুনিক ব্যবসায়িক মানসিকতা
বনাম পুরনো ঐতিহ্যের টানাপোড়েনে সংঘর্ষ শুরু হয়। দোকান বাঁচানোর লড়াই আর নিজের জীবনের
মানে খুঁজে পাওয়ার যাত্রা— এই দুইয়ের মাঝে মুরুগানকে খুঁজে নিতে
হয় নিজের আসল পরিচয়।
চূড়ান্ত পর্যায়ে, মুরুগান ও গ্রামের মানুষ
একত্র হয়ে ইডলি কড়াইকে পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা করেন। খাবারের স্বাদ, আবেগ, স্থানীয়
মানুষের ভালোবাসা— সব মিলিয়ে এই দোকান আবার প্রাণ ফিরে পায়।
মুরুগান বুঝতে পারেন, তার আসল শক্তি ব্যাংককের চাকচিক্যে নয়— বরং সেই ছোট্ট
দোকানে, যেখানে বাবার হাতের তৈরি ইডলির ঘ্রাণ আজও মানুষের হাসি এনে দেয়।
LINK


