বাংলা সাহিত্য থেকে অনুপ্রাণিত সিনেমাগুলোর
বিশেষত্ব হলো—এগুলো সমাজের স্তর, মানুষের অনুভূতি ও নৈতিকতার খেলা
এক ভিন্ন আঙ্গিকে দেখায়। পুতুলনাচের ইতিকথা (Putulnacher Itikatha) সেই ধারারই একটি
শক্তিশালী সিনেমা। ১৯৩৫ সালের উপন্যাসের আবেগ ও বাস্তবতা আজকের দর্শকদের মাঝে নতুন
করে অনুভূত হবে।
পুতুলনাচের ইতিকথা ১ আগস্ট ২০২৫ প্রেক্ষাগৃহে
মুক্তিপ্রাপ্ত একটি ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্র, যা মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালজয়ী উপন্যাস
অবলম্বনে নির্মিত। ছবিতে গ্রামবাংলার জীবন, মানুষের নৈতিক দ্বন্দ্ব, প্রেম–বিয়ে–সমাজের আড়াল করা
সত্যগুলোকে নিখুঁতভাবে দেখানো হয়েছে। জয়া আহসান, সুরঙ্গনা ব্যানার্জী ও আবির চ্যাটার্জি
অভিনীত এই সিনেমা ভিন্ন সমাজব্যবস্থা ও মানুষের স্বপ্নপূরণের অসম্ভব লড়াইকে তুলে ধরেছে।
দর্শকরা এখানে দেখবেন চিকিৎসা শিক্ষা শেষে গ্রামে ফিরে আসা এক তরুণ ডাক্তার, তার নিজের
উচ্চাভিলাষ ও নারীর প্রতি সামাজিক আচরণের সংঘর্ষ।
🎬
কাহিনি সংক্ষেপ:
শশী—কলকাতা থেকে ডাক্তারি
পাশ করে ফিরে আসা এক তরুণ ডাক্তার। বাবার ইচ্ছায় সে গ্রামে মানুষের চিকিৎসা করতে শুরু
করেছে, কিন্তু তার হৃদয়ের গভীরে অন্য স্বপ্ন। শহরের আলো, নিজের প্রাক্টিস, তারপর বিলেতে
গিয়ে উচ্চতর শিক্ষার ইচ্ছা—সব মিলিয়ে গ্রামের জীবন তার কাছে যেন এক
অচেনা খাঁচা। শশীর জন্য এই গ্রাম কেবল দায়িত্ব, ভালোবাসা নয়।
গ্রামের মতি—সরল, লাজুক, সংসারী
মেয়েটি। কয়েকদিন আগেই ঝড়ের রাতে তার পিতা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। জীবনের কঠিন বাস্তবতার
মুখোমুখি সে। বাবার একমাত্র ইচ্ছা ছিল, মেয়েটির বিয়ে যেন হয় একজন ভালোমানুষ ও শিক্ষিত
যুবকের সঙ্গে। এই ইচ্ছার প্রতি শ্রদ্ধা রেখে শশী নিজেই তার চিকিৎসা ও পাত্র খোঁজার
দায়িত্ব নেয়।
কিন্তু গ্রামবাসীর চোখে শশীর প্রতি জন্ম
নেয় অন্যরকম অনুভূতি। মতির বৌদি কুসুম—সৌন্দর্যে, সাহসে
এবং আকর্ষণে ভরপুর। গ্রামের সরল জীবনে তার একঘেয়েমি, আর শশীর প্রতি অদৃশ্য টান তাকে
অসহায় করে তোলে। অজুহাতে শশীর কাছে সে আসতে চায়, সাহায্য চায়, কথা বলেন—সবই প্রেমের ইঙ্গিতে
ভরা। কিন্তু শশীর মন যেন কাঁচের দেয়াল—তাকে দূরে সরিয়ে
রাখে। কুসুমের এই প্রত্যাখ্যান একদিন ভেঙে দেয় তার ভেতরের সংযম। রাতের অন্ধকারে সে
শশীর পথ আটকে, নিজের অনুভূতি উজাড় করে দেয়; কিন্তু শশীর হৃদয় ততক্ষণে অন্য পথে।
আরো দেখুন:
মানবজমিন মুভি ডাউনলোড – Manobjomin Movie Download
এই গল্পে আরেকটি চরিত্র—কুমুদ। শশীর কলেজ-বন্ধু,
কলকাতার উচ্চশিক্ষিত ডাক্তার। জীবনের প্রতি তার দৃষ্টিভঙ্গি বাস্তববাদী, আত্মবিশ্বাসী।
ভাগ্যের খেলায় সে গ্রামে আসে, আর সেখানেই মতির সঙ্গে তার পরিপাটি সম্পর্ক তৈরি হয়।
মতির সরলতা, নিবেদন আর লাজুক চোখ কুমুদের হৃদয় জয় করে নেয়। শশীর ভেতরে তখন বেজে ওঠে
এক অচেনা টান—সে বুঝতে পারে, কেবল দায়িত্ব নয়, মতির প্রতি তার অনুভূতি
বাস্তব।
কিন্তু সময় কারও জন্য অপেক্ষা করে না।
কুমুদ—যে অপেক্ষা শিখেনি,
সিদ্ধান্ত নেয় খুব দ্রুত। মতিকে বিয়ে করে নিয়ে যায় সে। শশীর চোখে তখন ভেঙে যায় অহংকার,
স্বপ্ন, আর অসমাপ্ত আকাঙ্ক্ষার কোলাজ।
গ্রাম যেন এক পুতুলনাচ—চরিত্রেরা ছুটছে
নিজের স্বপ্নে, কিন্তু চালকের সুতো অন্য কারও হাতে। কেউ সমাজের চাপে, কেউ স্বার্থে,
কেউ প্রেমে—এক এক করে নতজানু। শশীর উচ্চাকাঙ্ক্ষা, কুসুমের অবদমিত
প্রেম, মতির লজ্জা, কুমুদের বাস্তবতা—সব চরিত্র সেই
পুতুল যার নিয়ন্ত্রণ জীবনের নির্মম মঞ্চে।


