থাম্মা (Thamma) হল ২০২৫ সালের
এক অনন্য হিন্দি রোমান্টিক কমেডি হরর চলচ্চিত্র যা পরিচালনা করেছেন আদিত্য সরপোতদার।
এটি Madock
Horror Comedy Universe-এর পঞ্চম কিস্তি। ছবির মূল ভূমিকায় অভিনয় করেছেন আয়ুষ্মান
খুরানা, রশ্মিকা মান্দান্না, নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী এবং পরেশ রাওয়াল।
সিনেমাটি নির্মিত হয়েছে প্রেম, ভয়, কমেডি
ও পৌরাণিক ভ্যাম্পায়ার সংস্কৃতির সমন্বয়ে। একদিকে এটি ভৌতিক রোমাঞ্চে ভরা, অন্যদিকে
রয়েছে মানবতার গভীর বার্তা।
এক সাংবাদিকের জীবনের অদ্ভুত বাঁক, এক
রহস্যময় নারীর আগমন এবং রক্তপিপাসু বেতালদের বিরুদ্ধে লড়াই ঘিরে সিনেমাটি গড়ে উঠেছে।
🎥
কাহিনি সংক্ষেপ:
গল্পের কেন্দ্রবিন্দুতে আছে অলোক গোয়েল
(আয়ুষ্মান খুরানা) — এক সাধারণ সাংবাদিক, যার জীবনে সাহসের
চেয়ে কল্পনা বেশি। একদিন রিপোর্টিং করতে গিয়ে সে দুর্ঘটনাবশত এক অজানা জঙ্গলে আটকা
পড়ে। সেখানে তার দেখা হয় তাদাকা (রশ্মিকা মান্দান্না) নামের এক রহস্যময় নারীর সঙ্গে,
যিনি তাকে বাঁচান একদল রক্তপিপাসু বেতালের হাত থেকে।
তাদাকার পরিচয় যত উন্মোচিত হতে থাকে, অলোক
বুঝতে পারে সে মানুষ নয় — সে এক বেতাল, যে প্রাচীন এক অভিশাপে বন্দী।
জানা যায়, ১৯৪৭ সালের দেশভাগের সময় মানুষের নিষ্ঠুরতা দেখে দেবতারা বেতালদের মানব
রক্ত পান করা নিষিদ্ধ করে দেন। কিন্তু সম্প্রদায়ের নেতা যক্ষসন (নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী)
এই নিয়মের বিরোধিতা করায় তাকে গুহায় বন্দী করা হয়।
আরো দেখুন:
জুমানজি ২ হিন্দি ডাবিং ফুল মুভি ডাউনলোড – Jumanji 2 Hindi Dubbed Movie Download
তাদাকা অলোককে নিরাপদে ফিরিয়ে আনতে চায়,
কিন্তু তার সঙ্গে থাকতে থাকতে এক অদ্ভুত বন্ধন তৈরি হয়। তাদাকার মমতা, তার নিঃস্বার্থ
ভালোবাসা অলোকের মনে দাগ কাটে। তারা দুজন একে অপরের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে।
একদিন শহরে ফেরার পর অলোক এবং তাদাকা এক পার্টিতে যোগ দেয়, যেখানে তাদাকার ভেতরের বন্য রূপ হঠাৎ জেগে ওঠে। সে বেতাল রূপে আক্রমণ করে দুষ্কৃতিদের, যদিও কাউকে হত্যা করে না। কিন্তু যক্ষসনের অনুসারীরা পরে তাদের হত্যা করে, যার দায় পড়ে তাদাকার উপর।
অলোক যখন জানতে পারে তাদাকা বিপদে, সে
তাকে বাঁচাতে ছুটে যায়। পথে দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়, এবং মৃত্যুর মুখে পড়ে। তাদাকা
তার রক্ত দিয়ে অলোককে বাঁচায় — কিন্তু তার ফলে অলোক নিজেও বেতালে
পরিণত হয়।
এই ঘটনায় যক্ষসন মুক্তি পায় তার গুহাবাস
থেকে, কারণ প্রাচীন নিয়মে বলা ছিল— “মানুষের রক্ষাকারী
বেতাল যদি মানুষকে বেতাল করে তোলে, তবে পুরোনো বেতাল মুক্তি পাবে।”
এরপর শুরু হয় মানুষের ও বেতালের এক মহাযুদ্ধ।
অলোক এখন এক শক্তিশালী সত্তা — মানুষ ও বেতালের মিশ্র রূপ। সে
বুঝতে পারে, এখন মানবতার রক্ষার দায়িত্ব তার কাঁধে।
শেষ লড়াইয়ে অলোক যক্ষসনের মুখোমুখি হয়।
এক তীব্র সংঘর্ষে যক্ষসন তাকে হত্যা করার আগেই অলৌকিক শক্তি অলোককে পুনর্জীবিত করে।
সে বেতালদের দেবীর হৃদয়ের স্পন্দন লাভ করে এবং নতুন “থাম্মা” (নেতা) হয়ে
ওঠে।
কিন্তু যক্ষসন আবারো গুহায় বন্দী হওয়ার
পরেও হুমকি শেষ হয় না — কারণ ওয়্যারউলফ যোদ্ধা ভাস্কর তাকে মুক্ত
করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শেষ দৃশ্যে দেখা যায়, অলোক, তাদাকা ও তাদের সম্প্রদায় নতুন
যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে মানুষ, বেতাল ও ওয়্যারউলফ — তিন জগতের সংঘর্ষ
এক হতে যাচ্ছে।
🎭
অভিনয় ও নির্মাণ বিশ্লেষণ:
আয়ুষ্মান খুরানা অসাধারণভাবে অলোক চরিত্রে
প্রাণ দিয়েছেন — একজন ভীত সাংবাদিক থেকে এক শক্তিশালী
বেতাল নেতায় তার রূপান্তর সিনেমার অন্যতম আকর্ষণ।
রশ্মিকা মান্দান্না-র চরিত্র তাদাকা রহস্যময়,
কোমল ও শক্তিশালী — তিনি গল্পের আবেগ ও রোমান্সের ভারসাম্য
সুন্দরভাবে বজায় রেখেছেন।
নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকী খলনায়ক যক্ষসন হিসেবে
ভয় ও কৌতুক দুটোই একসঙ্গে এনেছেন।
পরেশ রাওয়াল কমেডির রস যোগ করেছেন, যা
ছবিটিকে আরও প্রাণবন্ত করেছে।
“থাম্মা (Thamma)” একটি সাহসী পরীক্ষা
— যেখানে ভৌতিকতা,
কমেডি ও রোমান্স একে অপরের সঙ্গে মিশে গেছে নিখুঁতভাবে।
ম্যাডক হরর ইউনিভার্সের আগের সব সিনেমার মতোই এটি মজার, উত্তেজনাপূর্ণ ও আবেগঘন। আয়ুষ্মান
ও রশ্মিকার কেমিস্ট্রি এই সিনেমার প্রাণ, আর গল্পের মোচড় আপনাকে শেষ পর্যন্ত ধরে রাখবে।

