বাংলা সিনেমার সামাজিক-পারিবারিক গল্পপ্রেমীদের
জন্য ২০২৬ সালের শুরুতেই এক আলাদা স্বাদের ছবি ‘কীর্তনের পর কীর্তন’। ২৩ জানুয়ারি
২০২৬ (শুক্রবার) জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পাওয়া এই চলচ্চিত্রটি মধ্যবিত্ত
বাঙালি পরিবারের ক্ষমতা, সম্পর্ক ও মূল্যবোধের সূক্ষ্ম দ্বন্দ্বকে তুলে ধরেছে। পরাণ
বন্দ্যোপাধ্যায়ের সংযত অথচ শক্তিশালী অভিনয় ছবিটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
কাহিনি
সংক্ষেপ:
অবিনাস চট্টোপাধ্যায় একজন বয়স্ক, সংস্কৃতিমনা
ও দৃঢ়চেতা মানুষ। দীর্ঘদিন পুরোনো বাড়িতে থাকার পর তিনি পরিবার নিয়ে একটি আধুনিক
অ্যাপার্টমেন্টে ওঠেন। নতুন পরিবেশ, নতুন মানুষ এবং নতুন নিয়ম—সবকিছুর সঙ্গে
মানিয়ে নেওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু হয় ছবির মূল দ্বন্দ্ব।
অ্যাপার্টমেন্টে কিছুদিনের মধ্যেই সমিতির
সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আশ্চর্যের বিষয়, এই নির্বাচনে প্রার্থী হন অবিনাস চট্টোপাধ্যায়
নিজে এবং তাঁর পুত্রবধূ। একই পরিবারের শ্বশুর ও বৌমার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা গোটা অ্যাপার্টমেন্টে
আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। পুত্রবধূ আধুনিক চিন্তাধারার প্রতিনিধি, অন্যদিকে অবিনাস
ঐতিহ্য ও শৃঙ্খলার পক্ষে।
নির্বাচনে জয়লাভের জন্য পুত্রবধূ ছাপ্পা
ভোটের আশ্রয় নিতে চাইলেও শেষ পর্যন্ত মাত্র এক ভোটের ব্যবধানে অবিনাস চট্টোপাধ্যায়
সভাপতি নির্বাচিত হন। এই ফলাফল শ্বশুর-বৌমার সম্পর্কে অদৃশ্য এক দেওয়াল তুলে দেয়।
আরো দেখুন:
রাহু কেতু মুভি ডাউনলোড – Rahu Ketu Movie Download
বসন্ত উৎসব ঘিরে দ্বন্দ্ব আরও স্পষ্ট হয়।
অবিনাস চান রবীন্দ্রসংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আর পুত্রবধূ আয়োজন করতে চান আধুনিক
নাচ-গানের অনুষ্ঠান। মতের অমিল থাকলেও দু’জনের সম্পর্ক
তখনও পুরোপুরি ভাঙেনি।
একদিন অ্যাপার্টমেন্টের বাসিন্দারা কিছু
অভিযোগ নিয়ে অবিনাস চট্টোপাধ্যায়ের কাছে এলে তর্ক চরমে ওঠে। রাগের মাথায় তিনি সেক্রেটারির
দিকে ফুলের টব ছুড়ে মারেন, যার ফলে গুরুতর আহত হন তিনি। এই ঘটনার পর গোটা অ্যাপার্টমেন্ট
তাঁদের বিরুদ্ধে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে।
অপমান ও মানসিক চাপে অবিনাস পরিবারসহ অ্যাপার্টমেন্ট
ছেড়ে আবার পুরোনো বাড়িতে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এই পুরোনো বাড়িতে তখন একা
থাকেন এক রহস্যময় নারী। বাড়িটি মূলত তাঁর দেবর কিনেছিলেন অবিনাসের কাছ থেকে, কিন্তু
পরে সেটি ফাঁকা পড়ে থাকায় ওই নারী সেখানে থাকতে শুরু করেন।
অবিনাস চট্টোপাধ্যায় নিয়মিত সেই বাড়িতে
যাতায়াত করতে থাকেন। একসঙ্গে চা-আড্ডা, স্মৃতিচারণ আর নীরব বোঝাপড়ার মধ্য দিয়ে দু’জনের মধ্যে এক
গভীর মানবিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। এখানেই ছবির গল্প নতুন মোড় নেয়—ক্ষমতার লড়াই
থেকে মানবিক সহমর্মিতার পথে।

