যুদ্ধ মানেই শুধু অস্ত্র আর রক্তপাত নয়—যুদ্ধের আড়ালে
থাকে অসংখ্য নীরব যোদ্ধা, যাদের গল্প খুব কমই বলা হয়। তামিল ভাষার যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র
‘সাল্লিয়ারগাল
(Salliyargal)’ ঠিক সেই নীরব
যোদ্ধাদের জীবনসংগ্রাম তুলে ধরেছে।
Salliyargal (সাল্লিয়ারগাল)
হলো ২০২৬ সালের একটি ভারতীয় তামিল ভাষার যুদ্ধ চলচ্চিত্র, যা পরিচালনা করেছেন ‘মেথাগু (২০২)’ খ্যাত টি. কিট্টু।
ছবিটিতে অভিনয় করেছেন সত্যদেবী, করুণাস ও তিরুমুরুগান।
তিন বছর ধরে মুক্তির সংগ্রামের পর, সিনেমাটি
১ জানুয়ারি ২০২৬ সালে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়। গল্পের পটভূমি ২০০৯ সালে শ্রীলঙ্কার
গৃহযুদ্ধের শেষ দিনগুলো, যেখানে তামিল ইলমের যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মরত চিকিৎসকদের মানবিক
লড়াই তুলে ধরা হয়েছে। যুদ্ধের নিষ্ঠুরতার মাঝেও চিকিৎসা, দায়িত্ববোধ ও মানবতার শক্তিশালী
বার্তা দেয় এই সিনেমা।
🎬
কাহিনি সংক্ষেপ
‘সাল্লিয়ারগাল’ সিনেমার গল্প
শুরু হয় ২০০৯ সালে, শ্রীলঙ্কার গৃহযুদ্ধের শেষ ও সবচেয়ে ভয়াবহ সময়কে কেন্দ্র করে। চারদিকে
বোমা, গোলাগুলি আর মৃত্যুর ছায়া—এই ধ্বংসস্তূপের মাঝেই কিছু মানুষ
অস্ত্র ছাড়াই যুদ্ধ করে চলেছে। তারা হলেন যুদ্ধক্ষেত্রে কর্মরত ডাক্তার ও মেডিকেল টিম,
যাদের একমাত্র অস্ত্র মানবতা।
গল্পের মূল চরিত্ররা যুদ্ধের ফ্রন্টলাইনে
কাজ করা চিকিৎসক। তাদের প্রতিদিনের জীবন মানেই অনিশ্চয়তা—কখন বোমা পড়বে,
কখন হাসপাতাল লক্ষ্যবস্তু হবে, কেউ জানে না। তবুও আহত মানুষদের বাঁচানোর দায়িত্ব থেকে
তারা এক পা-ও পিছিয়ে আসে না। খাবার নেই, ওষুধ নেই, বিদ্যুৎ নেই—এই চরম সংকটের
মধ্যেই তারা অপারেশন চালিয়ে যায়।
আরো দেখুন:
আঁতকা ওয়েব সিরিজ ডাউনলোড – Aatka Web Series Download
একদিকে যুদ্ধরত বাহিনীর চাপ, অন্যদিকে
সাধারণ মানুষের কান্না—এই দুইয়ের মাঝে দাঁড়িয়ে ডাক্তারদের নিতে
হয় কঠিন সিদ্ধান্ত। কখনো একজন আহত শিশুকে বাঁচাতে গিয়ে আরেকজনের জীবন ঝুঁকিতে পড়ে,
আবার কখনো সীমিত ওষুধ কাকে দেওয়া হবে—এই নৈতিক দ্বন্দ্ব
তাদের ভেতরে গভীর ক্ষত তৈরি করে।
সিনেমায় ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে প্রতিটি চরিত্রের
ব্যক্তিগত গল্প। কেউ পরিবার হারিয়েছে, কেউ জানে না যুদ্ধ শেষে সে বেঁচে থাকবে কিনা।
তবুও তারা বিশ্বাস করে—মানুষ বাঁচানোই তাদের ধর্ম। যুদ্ধের ভয়াবহতা
যত বাড়তে থাকে, ততই চিকিৎসকদের মানসিক চাপ চরমে পৌঁছায়।
চলচ্চিত্রের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো—এটি যুদ্ধকে বীরত্বের
গল্প হিসেবে নয়, বরং মানবিক বিপর্যয় হিসেবে দেখিয়েছে। বন্দুকধারীদের পাশাপাশি যারা
নীরবে জীবন বাঁচানোর লড়াই করে, ‘সাল্লিয়ারগাল’ সেই অবহেলিত
নায়কদের কণ্ঠস্বর।
শেষ দিকে যুদ্ধ যখন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন
ডাক্তারদের সামনে দাঁড়ায় সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষা—নিজেদের জীবন
বাঁচাবে, নাকি শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত আহত মানুষদের পাশে থাকবে। এই প্রশ্নের উত্তরই গড়ে
তোলে সিনেমার আবেগঘন পরিণতি।


