২০২৬ সালের
সবচেয়ে আলোচিত কোর্টরুম থ্রিলার সিনেমাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো SYSTEM। রহস্য, আবেগ, মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব
এবং আইনি লড়াইয়ের এক অসাধারণ মিশ্রণ নিয়ে তৈরি এই সিনেমাটি দর্শকদের শুরু থেকে শেষ
পর্যন্ত টানটান উত্তেজনার মধ্যে রাখে। জনপ্রিয় অভিনেত্রী Sonakshi Sinha এর শক্তিশালী
অভিনয় এবং Jyothika এর রহস্যময় চরিত্র সিনেমাটিকে অন্য মাত্রা দিয়েছে।
সিনেমাটি নির্মাণ
করেছেন Harman Baweja এবং Arun Sukumar। পরিচালনায় ছিলেন Ashwiny Iyer Tiwari।
চলচ্চিত্রটি
২২ মে ২০২৬ সালে মুক্তি পায় Amazon Prime
Video এ এবং মুক্তির পর থেকেই দর্শকদের মাঝে ব্যাপক আলোচনা
সৃষ্টি করে। সিনেমাটির প্রধান আকর্ষণ হলো এর শক্তিশালী স্ক্রিপ্ট, আদালতের নাটকীয়
দৃশ্য এবং চরিত্রগুলোর মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব।
কাহিনি সংক্ষেপ:
SYSTEM
Movie-এর গল্প মূলত আইন, ন্যায়বিচার এবং ব্যক্তিগত
সম্পর্কের জটিলতাকে ঘিরে তৈরি। সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্র নেহা, একজন সরকারি আইনজীবী।
তার চরিত্রে অভিনয় করেছেন Sonakshi Sinha।
নেহা তার কর্মজীবনের
সবচেয়ে কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছিল। বহু চেষ্টা করেও সে কোনো মামলা জিততে পারছিল
না। তার ব্যর্থতা তাকে মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে। এই পরিস্থিতিতে তার বাবা রবি রাজবংশ,
যিনি একজন বিখ্যাত প্রতিরক্ষা আইনজীবী, তাকে একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ দেন।
আরও দেখুন:
চাঁদ মেরা দিল মুভি ডাউনলোড - Chand Mera Dil Movie Download (2026)
চ্যালেঞ্জটি
ছিল—নেহাকে
টানা ১০টি মামলা জিততে হবে এবং মাঝপথে একটি মামলাও হারানো যাবে না। প্রথমে নেহা বিষয়টিকে
অসম্ভব মনে করলেও ধীরে ধীরে সে নিজেকে প্রমাণ করার জন্য প্রস্তুত হতে থাকে।
এই সময় তার
জীবনে আসে সারিকা নামের এক রহস্যময় নারী। সারিকার চরিত্রে অভিনয় করেছেন Jyothika। সারিকা একজন কোর্টরুম স্টেনোগ্রাফার হলেও তার আইনি জ্ঞান এবং বিশ্লেষণ
ক্ষমতা ছিল অসাধারণ।
সারিকা বিভিন্ন
মামলা নিয়ে নেহাকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, প্রমাণ এবং কৌশল দিতে শুরু করে। আশ্চর্যজনকভাবে
নেহা একের পর এক মামলা জিততে থাকে। তার আত্মবিশ্বাস বাড়তে থাকে এবং ধীরে ধীরে সে একজন
সফল আইনজীবীতে পরিণত হয়।
নবম মামলা জয়ের
পর নেহা তার জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মামলার মুখোমুখি হয়। এই দশম মামলায় তার
প্রতিপক্ষের আইনজীবী ছিলেন তার নিজের বাবা রবি রাজবংশ। বাবার বিরুদ্ধে আদালতে দাঁড়ানোর
বিষয়টি নেহার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়ায়।
রবি রাজবংশ
তাকে মামলাটি না নেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কিন্তু নেহা নিজের আত্মসম্মান এবং ক্যারিয়ারের
জন্য মামলাটি গ্রহণ করে। এই ঘটনায় বাবা-মেয়ের সম্পর্কের মধ্যে তীব্র দূরত্ব তৈরি
হয়। উত্তপ্ত বাক্যবিনিময়ের পর নেহা নিজের বাড়ি ছেড়ে সারিকার সাথে থাকতে শুরু করে।
এরপর গল্পে
আসে সবচেয়ে বড় মোড়। দশম মামলার তদন্ত করতে গিয়ে নেহা ধীরে ধীরে জানতে পারে যে সারিকা
তাকে সত্যিকার অর্থে সাহায্য করেনি। বরং পুরো সময় জুড়ে সে নেহাকে ব্যবহার করেছে।
নেহা আবিষ্কার
করে যে তার জেতা আগের নয়টি মামলাই আসলে পরিকল্পিতভাবে সাজানো ছিল। প্রতিটি মামলার
পেছনে সারিকার গোপন উদ্দেশ্য কাজ করছিল। এই সত্য জানার পর নেহার পৃথিবী যেন ভেঙে পড়ে।
নেহা বুঝতে
পারে, সে শুধু আদালতে নয়, নিজের জীবনেও একটি বড় প্রতারণার শিকার হয়েছে। এরপর সে
সারিকার মুখোমুখি হয় এবং তখন প্রকাশ পায় সারিকার অতীত, তার কষ্ট এবং প্রতিশোধের কারণ।
সিনেমার শেষ
অংশে আদালতের নাটকীয় দৃশ্য এবং নেহার মানসিক দ্বন্দ্ব দর্শকদের আবেগতাড়িত করে তোলে।
নেহাকে সিদ্ধান্ত নিতে হয়—সে কি সত্যের পক্ষে দাঁড়াবে, নাকি নিজের জীবনের নিরাপত্তা বেছে নেবে।

