সাবা মুভি একটি হৃদয়স্পর্শী বাংলা স্বল্পদৈর্ঘ্য
চলচ্চিত্র। Saba ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে এবং এর আগে
প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত হয়ে দর্শকদের প্রশংসা কুড়িয়েছে।
মেহজাবিন চৌধুরীর শক্তিশালী অভিনয়ে সিনেমাটিতে
তুলে ধরা হয়েছে এক মেয়ের সংগ্রাম, যে তার অসুস্থ ও প্যারালাইজড মাকে বাঁচাতে জীবনের
সব বাধার বিরুদ্ধে লড়াই করে। নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তবতা, আর্থিক সংকট, নারীর
নিরাপত্তা ও আত্মত্যাগ—সবকিছু মিলিয়ে সাবা একটি মানবিক ও আবেগঘন
গল্প। যারা বাস্তবধর্মী বাংলা সিনেমা দেখতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এটি অবশ্যই দেখার
মতো একটি চলচ্চিত্র।
🧠
কাহিনি সংক্ষেপ:
সাবা সিনেমার গল্প আবর্তিত হয়েছে এক সাধারণ
মধ্যবিত্ত পরিবারের বাস্তব জীবনসংগ্রামকে ঘিরে। সাবা একজন দায়িত্বশীল ও সংগ্রামী তরুণী,
যার জীবনের একমাত্র লক্ষ্য—অসুস্থ মাকে সুস্থ করে তোলা। সাবার মায়ের
দীর্ঘদিন ধরে হার্টের সমস্যা রয়েছে এবং তিনি আংশিকভাবে প্যারালাইজড। চিকিৎসকদের মতে,
তাকে দ্রুত অপারেশন করাতে না পারলে যেকোনো সময় বড় বিপদ ঘটতে পারে।
আরো দেখুন:
অমীমাংসিত ওয়েব ফিল্ম ডাউনলোড – Omimangshito Web Film Download
একদিন মাকে গোসল করাতে গিয়ে হঠাৎ অজ্ঞান
হয়ে পড়েন তিনি। প্রথমে সাবা ভেবেছিল, মা হয়তো গোসল এড়াতে অসুস্থতার ভান করছেন।
কিন্তু অল্প সময়ের মধ্যেই বোঝা যায়—তিনি হার্ট অ্যাটাকে
আক্রান্ত হয়েছেন। এই ঘটনাই সাবার জীবনে চূড়ান্ত মোড় এনে দেয়। মায়ের চিকিৎসার জন্য
জরুরি ভিত্তিতে প্রায় তিন লক্ষ টাকার প্রয়োজন হয়।
সাবার বাবা একজন নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষ।
সংসারের দৈনন্দিন খরচ চালানোই যেখানে কষ্টকর, সেখানে এত বড় অঙ্কের টাকা জোগাড় করা
তার পক্ষে প্রায় অসম্ভব। পরিবারের এই সংকটময় মুহূর্তে সাবা নিজেই দায়িত্ব কাঁধে
তুলে নেয়। সে একটি অফিসে চাকরি শুরু করে, যাতে দ্রুত কিছু টাকা জমাতে পারে।
অফিসে কাজ করতে গিয়ে এক সহকর্মীর সঙ্গে
সাবার ভালো বন্ধুত্ব তৈরি হয়। সেই বন্ধুত্ব কিছুটা মানসিক সাপোর্ট দিলেও সময়ের সঙ্গে
সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয় এবং সম্পর্কের মাঝে দূরত্ব দেখা দেয়। অন্যদিকে মায়ের
দেখভালের দায়িত্বে সাবা প্রায়ই অফিসে দেরি করে পৌঁছায়। এতে তার বস অসন্তুষ্ট হয়ে
পড়েন এবং একপর্যায়ে চাকরি হারানোর ঝুঁকিও তৈরি হয়।
কোনো উপায় না দেখে সাবা রাতে অতিরিক্ত
কাজ করার প্রস্তাবে রাজি হয়। একজন নারী হিসেবে রাতে রাস্তায় চলাফেরা করা তার জন্য
ভয়ংকর ও অনিশ্চিত হয়ে ওঠে। তবুও জীবনের সঙ্গে আপস না করে সাবা এগিয়ে যেতে থাকে।
তার একমাত্র লক্ষ্য—যেভাবেই হোক মাকে বাঁচাতে হবে।
এই পুরো যাত্রায় সাবাকে একাধিক সামাজিক
বাধা, নিরাপত্তাহীনতা ও মানসিক চাপের মুখোমুখি হতে হয়। তবুও মায়ের প্রতি ভালোবাসা
ও দায়িত্ববোধ তাকে দুর্বল হতে দেয় না। Saba সিনেমাটি প্রশ্ন তোলে—একজন সাধারণ নারী
সমাজ ও বাস্তবতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে কতদূর যেতে পারে তার প্রিয়জনকে বাঁচাতে?

