১২০ বাহাদুর (120
Bahadur Movie) হল ২০২৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এক শক্তিশালী হিন্দি ঐতিহাসিক
যুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র। ছবিটি ১৯৬২ সালের চীন-ভারত যুদ্ধের সময়কার রেজাং লা যুদ্ধের
সত্য ঘটনার উপর নির্মিত, যেখানে ১৩ কুমায়ুন রেজিমেন্টের চার্লি কোম্পানির ১২০ জন সাহসী
সৈন্য ৩০০০ জনেরও বেশি চীনা সেনার বিরুদ্ধে শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত লড়েছিলেন।
চলচ্চিত্রের কেন্দ্রীয় চরিত্র মেজর শয়তান
সিং ভাটি, যার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন ফারহান আখতার, যিনি এই যুদ্ধে অসীম সাহসিকতার জন্য
পরবর্তীতে পরমবীর চক্র পুরস্কারে ভূষিত হন। ছবিতে রাশি খান্না অভিনয় করেছেন তার স্ত্রী
শগুন কানওয়ার চরিত্রে। ১২০ বাহাদুর যুদ্ধের তীব্রতা, সামরিক কৌশল, সৈন্যদের ত্যাগ এবং
ভারতীয় সেনার গর্বকে এক অনন্য সিনেমাটিক অভিজ্ঞতায় উপস্থাপন করে। দর্শকদের কাছে ছবিটি
দেশপ্রেম, আবেগ ও ঐতিহাসিক স্মৃতির এক গভীর বার্তা পৌঁছে দেয়।
কাহিনি
সংক্ষেপ:
১৯৬২ সালের উত্তাল সময়। লাদাখের উচ্চতম
পর্বত অঞ্চলে ভারত ও চীনের মধ্যকার উত্তেজনা ক্রমশ বাড়ছে। সীমান্তে টহল, তীব্র শীত,
আর অজানা এক যুদ্ধে অংশ নেওয়ার অঘোষিত প্রস্তুতি—এই দৃশ্যই ১৩
কুমায়ুন রেজিমেন্টের চার্লি কোম্পানির দৈনন্দিন বাস্তবতা। এই কোম্পানির দায়িত্বভার
নেন মেজর শয়তান সিং ভাটি—এক অভিজ্ঞ, দৃঢ়চিত্ত এবং সৈন্যদের প্রতি
অটল বিশ্বাসী নেতা।
মেজর শয়তানের ব্যক্তিগত জীবনেও রয়েছে অনুভূতির
মিশেল। স্ত্রী শগুন কানওয়ারের সাথে তার সম্পর্ক যতটা স্নেহময়, ততটাই দায়িত্বে আবদ্ধ।
প্রতিবার বিদায়ের আগে শগুনের মুখে দেখা যায় ভয় ও উদ্বেগ—কিন্তু শয়তান
সিং জানেন, তার দায়িত্বই তার আসল পরিচয়। শগুনও তা বোঝেন, তাই নীরব প্রার্থনায় তিনি
স্বামীকে আশীর্বাদ করেন।
রেজাং লা—এক খোলা, হিমায়িত
গিরিপথ; চারদিক বরফে ঢেকে থাকা, যেখানে কোনো আর্টিলারি সহায়তা নেই। এই পাহাড়ি অঞ্চল
দখলে রাখাই ছিল চার্লি কোম্পানির দায়িত্ব। মেজর শয়তান সিং তাঁর সৈন্যদের ছোট ছোট ইউনিটে
ভাগ করে দেন। অভিজ্ঞ জেমাদার সূর্য রাম ও জেমাদার হরিরাম সিং নেতৃত্বে রাখেন ফায়ারিং
পোস্টগুলো। তরুণ নানহা স্বপ্ন দেখে গৌরবের, তবে যুদ্ধের ভয় তাকে অস্থির করে তোলে। রামলালের
মতো প্রফুল্ল রাইফেলম্যান রসবোধ দিয়ে সবার ভীতিকে আড়াল করে রাখে।
এদিকে সদর দপ্তরে ব্রিগেডিয়ার টি.এন. রায়না
এবং লেফটেন্যান্ট কর্নেল এইচ.এস. ধিংরা পরিস্থিতি নজরে রাখছেন। তাঁরা জানেন, শীতের
কঠিনতাকে পেরিয়ে চীনা সেনারা আক্রমণ শানাতে পারে। কিন্তু তাদের হাতে সীমিত সামরিক শক্তি;
তাই চার্লি কোম্পানিকে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হবে—যতক্ষণ না সাহায্য
আসে।
আরো দেখুন:
অ্যারোমালে মুভি ডাউনলোড – Aaromaley Movie Download
পরিস্থিতি দ্রুত ভয়াবহ দিকে মোড় নেয়। অর্ধরাত্রিতে
বরফাচ্ছন্ন অন্ধকার আকাশে চীনা বাহিনীর গোলাবর্ষণ শুরু হয়। পাহাড়ে ধ্বনিত হতে থাকে
বিস্ফোরণ। কয়েক মিনিটের মধ্যেই সৈন্যরা শত্রু পদাতিক বাহিনীর ঢেউয়ের সম্মুখীন হয়। কমান্ডের
নির্দেশ, এক ইঞ্চিও পিছু নয়।
প্রথম আঘাতে বহু পোস্ট মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত
হয়। তবুও সৈন্যরা হাল ছাড়ে না। হাতে রয়েছে মৌলিক রাইফেল ও মেশিনগান। নানহা একসময় ভয়কে
জয় করে সামনে এগিয়ে যায়। রামচন্দ্র যাদব রেডিওর মাধ্যমে সদর দপ্তরে বার্তা পাঠাতে থাকেন—“আমরা লড়ছি… শেষ পর্যন্ত।”
হিমশীতল পাহাড়ের ঢালে ১২০ জন সৈন্য একে
একে পড়ে যায়। গোলাগুলি শেষ হয়ে গেলে তারা বেয়নেট দিয়ে, পাথর দিয়ে, এমনকি খালি হাতে
শত্রুর বিরুদ্ধে লড়াই করে। যুদ্ধের মধ্যেই মেজর শয়তান সিং আহত হন। অবস্থা জটিল জেনেও
তিনি পিছিয়ে আসেন না। তাঁকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হলে তিনি অস্বীকার করেন—সেনারা যুদ্ধ
করছে, নেতৃত্বও যুদ্ধক্ষেত্রেই থাকা উচিত।
শেষ মুহূর্তে, শয়তান সিং তাঁর ক্ষতস্থানে
মৃত্যুবরণ করেন। তার সৈন্যরা যুদ্ধক্ষেত্রে অটল থেকে যায়। চীনা বাহিনী ১৩০০ জনেরও বেশি
হতাহতের সম্মুখীন হয়। কিন্তু চার্লি কোম্পানির প্রায় সকল সদস্য শহীদ হন—মাত্র কয়েকজন
বেঁচে থেকে যুদ্ধের ভয়াবহ গল্প সেনা সদর দপ্তরে জানান।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর, পরিবারগুলো সংবাদ
পায়। শগুন কানওয়ার নিরব অশ্রু ধারণ করেন, কিন্তু তার চোখে গর্ব—তার স্বামী দেশের
জন্য প্রাণ দিয়েছেন। ছবির শেষ দৃশ্যে ১২০ জন অমর সৈন্যের নামের সামনে শ্রদ্ধা নিবেদন
করা হয়, যারা রেজাং লাকে পরিণত করেছিলেন সাহস, কর্তব্য ও জাতীয় সম্মানের প্রতীকে।
120 Bahadur Movie Download Link
File Size: 1.60 GB
Duration: 02:39:15 Hours

