“নাগরদোলা” ২০০৫ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই জনপ্রিয় বাংলা চলচ্চিত্রটি আবারও দর্শকদের
মনে জায়গা করে নিচ্ছে। বয়সন্ধিকাল, পরিবার, সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং আবেগের জটিলতা—সব মিলিয়ে তৈরি “নাগরদোলা” আজও সমান প্রাসঙ্গিক। ছবিটিতে
অভিনয় করেছেন ভৌমিক, সমতা দাস, পার্থসারথি সহ আরও অনেকে।
তরুণ-তরুণীদের
বয়সন্ধিকালীন পরিবর্তন, পারিবারিক ভুল বোঝাবুঝি এবং সামাজিক বাস্তবতাকে কেন্দ্র করে
নির্মিত এই চলচ্চিত্রটি নতুন প্রজন্মের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
⭐ কাহিনি সংক্ষেপ:
“নাগরদোলা” সিনেমার গল্প শুরু হয় নন্দিনীর পরিবারকে কেন্দ্র করে। নন্দিনী একজন
কর্তৃত্বপরায়ণ গৃহিণী—স্বামী, ছেলে, মেয়ে, প্রতিবেশী—সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করার অদ্ভুত প্রবণতা রয়েছে তার। বাবার কঠোর আর্মি
ব্যাকগ্রাউন্ড তাকে আরও কঠিন, রাগী ও কথা-কাটাকাটিতে অভ্যস্ত করে তুলেছে। স্বামী অনিন্দ্র
তার এই আচরণে বহুদিন ধরেই অসন্তুষ্ট, কিন্তু নীরবেই সবকিছু সহ্য করে আসছেন।
গল্পে আসে তাদের
কিশোরী মেয়ে নিশা, যার বয়সন্ধিকালের মানসিক পরিবর্তন, আবেগ, কৌতূহল ও একাকিত্ব সিনেমার
অন্যতম কেন্দ্র। পরিবার কিছুটা ভালো সময় কাটানোর জন্য দুই দিনের জন্য সমুদ্রসৈকতে
ঘুরতে যায়। সেখানে নিশার আলাপ হয় সুমি নামের এক প্রাণবন্ত তরুণীর সাথে। কিন্তু রাতে
খাবার টেবিলে কথার ভুল বোঝাবুঝিতে সবার সামনে মাকে তিরস্কার করে উঠে চলে যায় নিশা—যা নন্দিনী মানতে পারেন না। রাগের
মাথায় তিনি পরের দিনই বাসায় ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আরো দেখুন:
আমরা ওয়েব সিরিজ ডাউনলোড – Amra Web Series Download
অন্যদিকে, নন্দিনীর
কঠোর আচরণের কারণে অনিন্দ্র মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছেন। শান্তির আশায় তিনি
অফিসের সহকর্মী রিচার সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন। এই সম্পর্ক তার জীবনে সাময়িক
স্বস্তি আনলেও আরও বড় সমস্যা তৈরি করে।
এই পরিবারের
আরেক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র রুদ্র, যিনি রাজা নামক ছোট ছেলেটির গৃহশিক্ষক। রাজা বাংলায়
কম নম্বর পাওয়ায় নন্দিনী তাকে আরও কড়া করে পড়াতে নির্দেশ দেন। ফলে রুদ্র প্রতিদিন
আগে আগে বাসায় আসে, আর সেই সময় বাড়িতে থাকে শুধু রাজা ও নিশা।
মনের অস্থিরতা,
কিশোরী আবেগ, একাকিত্ব—সবকিছু মিলিয়ে রুদ্রের প্রতি এক ধরনের আকর্ষণ অনুভব করতে শুরু করে নিশা।
রুদ্রও ধীরে ধীরে নিশাকে অন্য চোখে দেখতে শুরু করে। দুজনেই জানে এই সম্পর্ক নিষিদ্ধ
ও ভুল, তবুও আবেগ তাদের আরও কাছাকাছি নিয়ে আসে। এই নিষিদ্ধ সম্পর্কই গল্পের মোড় ঘোরানোর
প্রধান পয়েন্ট।
এদিকে নন্দিনী
ও অনিন্দ্রের সম্পর্ক ভেঙে যেতে বসেছে। ভুল বোঝাবুঝি, অবহেলা এবং নন্দিনীর ইগো—সব মিলিয়ে বাড়ির পরিবেশ দিনদিন
অশান্ত হয়ে ওঠে। নিশা তার নিজের আবেগ সামলাতে পারছে না, আর রুদ্রের সঙ্গে সম্পর্ক তাকে
আরও বিপদের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
গল্পের শেষের
দিকে বিভিন্ন সত্য প্রকাশ পেতে শুরু করে। নন্দিনী বুঝতে পারেন তার কঠোর আচরণই পরিবারের
ভাঙনের মূল কারণ। অনিন্দ্রও বুঝতে পারে পালিয়ে যাওয়া কোন সমাধান নয়। আর নিশা বুঝতে
শেখে—কৈশোর
একটি আবেগঘন সময়, তবে ভুল সম্পর্কের পথে পা বাড়ানো জীবনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

