দে দে পেয়ার দে ২ (De De Pyaar De 2) — ২০২৫ সালের একটি ভারতীয় হিন্দি রোমান্টিক কমেডি ফিল্ম। লভ রঞ্জন ও তরুণ জৈনের গল্পে আনশুল শর্মার পরিচালনায় নির্মিত ছবিটি জনপ্রিয় ২০১৯ সালের সিনেমার সিক্যুয়েল। এতে অজয় দেবগন, আর. মাধবন এবং রাকুল প্রীত সিং অভিনয় করেছেন।
লন্ডন-ভিত্তিক
এনআরআই আশীষ এবং তার ছোট প্রেমিকা আয়েশার প্রেম, বয়সের পার্থক্য, পরিবার ও সামাজিক
চাপ নিয়ে পুরো কাহিনি এগোয়। দুই পরিবারের মানসিক দ্বন্দ্ব, ভুল বোঝাবুঝি, প্রেমের পরীক্ষা
এবং অতীতের যন্ত্রণাকে ঘিরে দে দে পেয়ার দে ২ আধুনিক যুগের সম্পর্কের বাস্তবতা তুলে
ধরে। এতে রয়েছে হাস্যরস, আবেগ, পারিবারিক ড্রামা এবং বয়সকে অতিক্রম করা ভালোবাসার গল্প।
⭐
কাহিনি সংক্ষেপ:
দে দে পেয়ার দে-এর পরবর্তী অধ্যায় শুরু
হয় ৫১ বছর বয়সী আশীষ মেহরা ও ২৭ বছরের আয়েশা খুরানাকে নিয়ে। প্রথম ছবিতে আশীষ তার পরিবারকে
আয়েশার সম্পর্কে বুঝিয়ে নিতে সক্ষম হলেও এবার সামনে আসে এক নতুন চ্যালেঞ্জ—আয়েশার পরিবারের
স্বীকৃতি।
আয়েশার পরিবার ভারতের পাঞ্জাবে বসবাস করে।
আশীষ ও আয়েশা তাদের সাথে দেখা করতে গেলে প্রথমেই সৃষ্টি হয় বিব্রতকর একটি পরিস্থিতি।
আয়েশার বাবা রাজজি, যিনি একজন দৃঢ়চরিত্রের, আবিষ্কার করেন যে আশীষ তার চেয়ে মাত্র দেড়
বছরের ছোট। বয়সের এই অস্বস্তিকর সত্য দু’পক্ষের মধ্যে
মানসিক দেয়াল তৈরি করে। পরিবারটি ভাবতে থাকে—আয়েশা কি কোনো
ভুল করছে? বয়সের এত ব্যবধান সত্ত্বেও এই সম্পর্ক টিকবে তো?
পরিবারের সামনে আয়েশা আশীষের বয়স গোপন
রাখে। সে আশীষকে বলে—বয়সের সত্যটি প্রকাশ করলে তারা তাকে মেনে
নেবে না। তাই সে বলে, “একজন তরুণ জামাইয়ের মতোই তোমাকে তাদের
মন জয় করতে হবে।” আশীষ চেষ্টা শুরু করে, কিন্তু পরিস্থিতি
খুব সহজ নয়। পরিবারের সদস্যরা তাকে বারবার প্ররোচনা দিয়ে আসল বয়স বের করতে চায়, বারবার
সন্দেহ করে, কিন্তু আয়েশা বুদ্ধিমত্তার সাথে সবকিছু সামাল দেয়।
আরো দেখুন:
বাইসন মুভি ডাউনলোড – Bison Movie Download (2025)
দু’পক্ষের টানাপোড়েন চরমে ওঠে যখন পরিবার বুঝতে পারে—আয়েশা তাদের কাছে মিথ্যা বলেছে। সম্পর্কটিকে তারা অসুস্থ মনে করে এবং সরাসরি আয়েশাকে মুখোমুখি করে। আয়েশা তার ভালোবাসাকে সঠিক বলে দাবি করলেও পরিবার তা মানতে চায় না। ঠিক তখনই আয়েশার শ্যালিকা — কিট্টু — প্রসব-পীড়ায় পড়লে সবাই দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যায়। শিশুর জন্মের পর উত্তেজনা কিছুটা কমলেও, সাময়িক শান্তির পর আবার শুরু হয় বিতর্ক।
একটি পার্টিতে রাজজি আয়েশাকে অপমানকারী
একজন পুরুষকে মারধর করেন। পরিবার আবার আশীষের দোষ খুঁজে পায়। ক্ষোভে আয়েশা আশীষকে নিয়ে
বাড়ি ছাড়ে। কিন্তু উত্তেজনা এখানেই শেষ নয়…
ADS2
পরিবার এবার পরিকল্পনা করে আদিত্য নামের
একজনকে ভাড়া করে, যে আয়েশার শৈশবের বন্ধু। তার দায়িত্ব—আয়েশাকে প্রলুব্ধ
করা, যাতে সে আশীষকে ছেড়ে দেয়। আদিত্য নানা উপায়ে তার প্রেমে পড়ানোর চেষ্টা করে—ক্লাবে নিয়ে যায়,
ব্যক্তিগত মুহূর্ত তৈরি করে—এবং ধীরে ধীরে আয়েশাকে ভেঙে ফেলে।
আশীষ বুঝতে পারে—এটি রাজজির পরিকল্পনা। কিন্তু আয়েশা যেন
নিজের সিদ্ধান্তে স্বাধীন থাকে, তাই আশীষ চুপ থাকে। সে রাজজিকে বলে—“যদি আমি তাকে
তার প্রাপ্য জীবন দিতে না পারি, তাহলে আমাকে বাধা দিও না।”
পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভেঙে যায় যখন আয়েশা
প্রকাশ্যে আদিত্যকে বিয়ে করতে রাজি হয়। আবেগে ভেঙে পড়া আশীষ লন্ডনে ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি
নেন। তার চলে যাওয়া দেখে আয়েশা হতাশায় ভরে ওঠে, রাগে ঘোষণা করে—সে আদিত্যকে বিয়ে
করবে।
বিয়ের দিন আসে। সবাই সাজে, আয়োজন হয়। কিন্তু
এখানে আসে সিনেমার সবচেয়ে বড় মোড়।
ফ্ল্যাশব্যাকে জানা যায়—আয়েশা আদিত্যকে
কখনও ভালোবাসেনি। আদিত্য স্বীকার করে—সে কেবল ভাড়া
করা “চরিত্র”। রাজজি তাকে
আয়েশাকে বিচ্ছিন্ন করার জন্য ব্যবহার করেছিলেন। আয়েশা আসলে আশীষের প্রতিই গভীরভাবে
ভালোবাসা অনুভব করে। সে মায়ের সাহায্যে রাজজিকে বুঝিয়েছে—আশীষ ছাড়া সে
সুখী হবে না। রাজজির সামনে আয়েশার কান্না, আদিত্যর সাথে কথোপকথন—সবই ছিল পরিকল্পনার
অংশ, যাতে পরিবারকে সত্যের মুখোমুখি দাঁড় করানো যায়।
সত্য প্রকাশের পর রাজজি নিজে লন্ডনে গিয়ে
আশীষকে ফিরিয়ে আনতে চান। কিন্তু তখনই জানা যায়—আশীষ ইতিমধ্যে
ভারতে ফিরে যাচ্ছে আয়েশার বিয়ে থামাতে। দুজনেই তড়িঘড়ি করে বিয়ের অনুষ্ঠানে পৌঁছায়।
মুহূর্তটি সিনেমার সবচেয়ে আবেগপ্রবণ দৃশ্য—পরিবারের সামনে
আয়েশা স্বীকার করে, সে কখনও আদিত্যকে ভালোবাসেনি, বরং সবসময় আশীষকেই ভালোবেসেছে।
শেষ দৃশ্যে আয়েশা আশীষকে চুম্বন করে, এবং
সম্পর্কের সব ভুল বোঝাবুঝি মুছে যায়। ছবিটি শেষ হয় আশীষ তার প্রাক্তন স্ত্রী মঞ্জুকে
নিজের আসন্ন বিয়ের কথা জানানোর মাধ্যমে—যেন পুরনো অধ্যায়
বন্ধ হয়ে নতুন শুরু হতে যাচ্ছে।
De De Pyaar De 2 Movie Download Link
File Size: 1.60 GB
Duration: 02:30:12 Hours

